শিক্ষা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

রুবেল ইসলাম,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানঃ আমাদের প্রত্যাশা ও সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “যত বড় ত্যাগ, তত বড় অর্জন সম্ভব। ৭১, ৯০ কিংবা ২০২৪—কোনো আন্দোলনই ত্যাগ ছাড়া সফল হয়নি। জুলাই একতা, প্রেরণা ও সাহসের প্রতীক।” তিনি পাঠ্যপুস্তকে ‘জুলাই ২০২৪’-এর ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান এবং বলেন, “যেই সরকারই আসুক, ৫ আগস্টের চেতনা থেকে বিচ্যুত হলে তাদেরও একই পরিণতি হবে।”

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আসির ইনতিশারুল হকের পিতা আ. হ. ম. এনামুল হক লিটন এবং শহীদ হৃদয় ইসলামের মাতা মাজেদা খাতুন। এনামুল হক বলেন, “আমার সন্তানের আত্মত্যাগ দেশের পরিবর্তনের পথ উন্মোচন করেছে।” হৃদয়ের মা বিচার না পাওয়ার বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা ভুলে যাওয়া জাতি, সবকিছু সহজেই ভুলে যাই। তবে জুলাই ২৪ কখনো ভুলে গেলে চলবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই আমাদের কখনো জুলাইকে ভুলতে দিবে না। আমি অনেক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংরক্ষণ করে রেখেছি।’ পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো এতো বৈচিত্রময় ফ্যাসিস্ট আর আছে বলে আমার জানা নাই উল্লেখ করে প্রধান আলোচক বলেন, ‘এদেশের কর্তৃত্ব নেওয়ার জন্য পার্শবর্তী দেশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। অনেক কষ্টের বিনিময়ে আজকের এই অর্জন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই অর্জনকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলি উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন। আলোচনায় অংশ নেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. তারানা নুপুর ও আহত শিক্ষার্থী নীরব কুমার দাস।

আলোচনার শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই চব্বিশ’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বিজয় র‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ আসর মিলাদ মাহফিল এবং সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।