শফিকুল ইসলাম শফিক।।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নে চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নিজের ঘর ভাঙচুর ও তছনছ এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের চলাচল রাস্তায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারির ঘটনায় গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাঞ্চন মিয়ার ছেলে মো. নবী হোসেন বিশ্বম্ভরপুর থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। রবিবার অভিযোগ তদন্ত করেছেন এস.আই মনির হোসেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অন্তত ৭ দিন আগে গ্রামের বাসিন্দা কালা মিয়ার বসতঘরের বেড়ার টিন কেটে প্রবেশ করে ড্রামের ভেতরে রাখা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ১ মণ চাউল আব্বাছ আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি চুরি করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে গ্রামবাসী সালিশের মাধ্যমে সমাধানে চেষ্টা করলে সমাজের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আব্বাছ আলী গংরা সালিশে উপস্থিত হননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে, আব্বাছ আলী গংরা একটি মারামারির ঘটনা সৃষ্টি করে চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার শুরু করেছে। এতে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, গত শনিবার বিকাল অনুমান দেড় টায় মো. কাউছার মিয়া, জোবেদা বেগম, রূপচাঁন বিবি, মো. কাউছার মিয়া, রফিক মিয়া, আজাদ মিয়া দাওয়াত শেষে নিজ বাড়ি আসার পথে রওয়ানা দেন। তারা সবাই আব্বাছ আলীর বাড়ির পাশে আসতেই আব্বাছ আলীর আত্মীয় স্বজনেরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে অতর্কিত হামলা করে। এ সময় রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি জোবেদা বেগমের জামা-কাপড় টেনে হিঁচড়ে শ্রীলতাহানি ঘটায়। আল আমিন নামের অপর ব্যক্তি গলায় থাকা স্বার্ণের ১টি চেইন, যাহার ওজন ১.৫ ভরি, মূল্য অনুমান ২,৪০,০০০/-(দুইলক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা এবং নগদ ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা জোর জরদস্তি করে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ হামলার ঘটনায় মো. কাউছার মিয়া (২৮), জোবেদা বেগম (২৫), রূপচাঁন বিবি (৬০), সাবিনা ইয়াসমিন (৩০) গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের বিশ্বম্ভরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় হামলাকারীরা হলেন একই গ্রামের আব্বাছ আলী (৪০), পিতা-দেওয়ান আলী, রুহুল আমিন (৩০), আল আমিন (৩৫), মুর্তুজ আলী (৫০), পিতা-শাহার আলী, সৌরভ মিয়া (২১), পিতা-মুর্তুজ আলীসহ আরও অনেকে।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, চুরি করার দায়ে আব্বাছ আলীকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে আমি থানায় আলাপ করে বিষয়টি সমাধানের জন্য গ্রামে সালিশের আয়োজন করি। গ্রামের মুরব্বীরা সালিশে উপস্থিত হলেও আব্বাছ আলীর লোকজন আসেননি। এরপর উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়। এই ঘটনায় আব্বাছ আলীর বাড়ির টিনের বেড়া নষ্ট হয়।
নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানান, আব্বাছ আলী গংরা চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে সালিশে আসেনি। বরং মারামারি ঘটনার সৃষ্টি করেছেন। নিজের বাড়ির বেড়া নিজে ভেঙে এবং ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এটাকে প্রচার দিয়েছে। এই মিথ্যা অপপ্রচারে আমাদের গ্রামের মানুষের ইজ্জত ক্ষুন্ন হচ্ছে।
স্থানীয় মাতব্বর আব্দুস সালাম, আজাদ মিয়াসহ অনেকে জানান, চুরির অপরাধ সালিশে শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে গ্রামে শান্তি-শৃংখলা থাকে। বরং অশান্তি সৃষ্টি করেছে আব্বাছ আলী গংরা।
সলুকাবাদ ইউপির বর্তমান সদস্য শাহ পরান বলেন, চুরি করার ঘটনায় আব্বাছ আলীকে আটক করে রেখে থানায় যোগাযোগ করা হয়। পরে গ্রামের মুরব্বীরা সালিশে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আব্বাছ আলীর লোকজন আসেননি।
থানায় অভিযোগকারী মো. নবী হোসেন বলেন, আব্বাছ আলী গংদের বিরুদ্ধে একাধিকবার চুরির অভিযোগ আছে। এবার আমাদের বাড়িতে চুরি করেছে এবং মারামারির ঘটনার সৃষ্টি করেছে। আমাদের লোকজনকে বেদড়ক মারপিট করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আল আমিন বলেন, চুরি কেউ করলে তার বিচার হবে। কিন্তু আসলে যে চোর তাকে ধরতে হবে। আব্বাছ আলী চুরি করেননি। চুরি করেছে জীবন মিয়া (১৫) বছরের একটি ছেলে।
তিনি বলেন, সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় কাউছার ও আজাদ আমার পরিবারের একটি ছেলেকে মারপিট করে। এতেই মারামারির ঘটনা ঘটে। আমরা এখন বাড়িতে যেতে পারছি না ভয়ে।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অভিযোগ তদন্তকারী অফিসার এসআই মনির হোসেনের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।