মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট : “পে স্কেল কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বাগেরহাটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাগেরহাট জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
এ কর্মসূচিতে সকল সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ডাকে নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা জজ কোর্টের নাজির অমিত রায়, অফিস গার্ড জামাল শেখ এবং জেলা প্রশাসন বাগেরহাটের ১৭-২০ গ্রেড কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বর্তমান বেতন কাঠামোর কোনো সামঞ্জস্য নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ন্যূনতম জীবনযাপন করাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, পে স্কেল বাস্তবায়ন কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার। অবিলম্বে নবম পে স্কেল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সারা দেশের কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি ও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেও জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মচারীরা জনগণের করের টাকায় বেতন পান এবং জনগণের সেবা দেওয়াই তাদের দায়িত্ব। কিন্তু ন্যায্য বেতন ও জীবনযাপনের সুযোগ না থাকলে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হয় না। এতে জনগণকে সঠিক সেবাও দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ খাবার জোগাড় করাও অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক কর্মচারী মানসিক চাপে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা না হলে কর্মচারীদের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।