রিপন আহাম্মেদ : র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের শুরু থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, হত্যা মামলা, জঙ্গি দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯ সিলেট বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. তারিখ থেকে অদ্যাবধি র্যাব-৯ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সর্বমোট ৩৬টি দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ০৫টি ম্যাগাজিন, ৭০৭৫ গ্রাম বিস্ফোরক, ৪৩টি ডেটোনেটর, ০১টি সাউন্ড গ্রেনেড, ০৫টি পেট্রোল বোমা এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলিসহ ৭৫টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে র্যাব-৯।
এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২টা ৫০ মিনিটে জানা যায়, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি এলাকার একটি ঝোপঝাড়ে অবৈধ অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দল রাত আনুমানিক ৩টা ০০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝোপঝাড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ০১টি বিদেশি পিস্তল, ০১টি দেশীয় তৈরি খাসিয়া দা, ০১টি দেশীয় তৈরি দা, ০১টি দেশীয় তৈরি ভোজালি, ০১টি ডিপ চাকু এবং ০১টি স্টিলের জাম্পার পাইপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
তবে অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসমূহ জিডিমূলে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।