বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পরিবেশ রক্ষায় সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দিতে হবে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে - পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশ রক্ষায় সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দিতে হবে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে - পরিবেশ উপদেষ্টা

আলী আহসান রবি : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দিতে হবে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে। তিনি উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরিবেশ দূষণরোধে আপনাদের নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে হবে।


আজ ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত চার পর্বের ‘Road to Green Menifesto: Dialoague with Political Parties’ শীর্ষক মেনিফেস্টো টক অনুষ্ঠানের ৪র্থ ও শেষ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।


এসময় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর মন্ত্রণালয়ের গৃহীত উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আমরা সমাধানের প্রক্রিয়াটা শুরু করেছি, এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পল্যুশন, নদী দূষণ এসবকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে তাদের।


তিনি জানান, আমাদের বায়ু দূষণের শতকরা ১৩ ভাগ আসে ইটভাটা থেকে। এছাড়া রাস্তার ধুলা, নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত রাখা, গাড়ি ঘোড়ার ধোয়া, ময়লা পোড়ানো এগুলোই বায়ু দূষণের মূল কারণ। গাড়ি ঘোড়ার কালো ধোয়া বন্ধে একটা স্ক্র্যাপ নীতিমালা করা হয়েছে। এখন এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারসেড’ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ইটভাটা বন্ধের অভিযান চালাতে গিয়ে অনেক আইনি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদেরকে। ঘুষ দিয়ে এবার কাজ হয়নি, তাই ইটভাটা বন্ধ করতে হয়েছে তাদের; ইটভাটা ১০৬ টা থেকে কমিয়ে ৩০ টাতে এনেছি। উপদেষ্টা বলেন, এবার আগের বছরের তুলনায় কম দিন বায়ু দূষণের শীর্ষে থেকেছে ঢাকা। এছাড়া বায়ু দূষণ রোধে ইস্টার্ণ রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে আমরা হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস করেছি।


উপদেষ্টা আরো বলেন, শব্দ দূষণ রোধে শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ তৈরি করা হয়েছে। বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণেও আলাদা আলাদা বিধিমালা করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন কারণে দখলকৃত হাজার হাজার একর বনভূমি উদ্ধার করেছি। উপদেষ্টা জানান, ঢাকার চারটা নদী আর বিশটা খাল রয়েছে। ছোট ছোট কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে। এবার ঢাকায় জলাবদ্ধতা কম হয়েছে। উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, আশাহত হলে চলবে না, কাজগুলো পদ্ধতিগতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।


ব্রাইটারসের চেয়ার ফারিহা অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মেনুফেস্টো টকের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সিপিআরডি-র মোঃ শামসুদ্দোহা, সিইজিআইএস-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান, ডিএনসিসির প্রশাসক মোঃ আজাদ, এনসিপ-র আরিফুল ইসলাম আদিব ও মনিরা শারমিন, বিএনপি-র ইসরাফিল খসরু এবং ইসলামী আন্দোলনের ফজলে বারী মাসউদ। অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন ব্রাইটারসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাইদুর রহমান।