শিক্ষা

সহশিক্ষা কার্যক্রমে মানবিক ও সৃজনশীল শিক্ষার বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার

সহশিক্ষা কার্যক্রমে মানবিক ও সৃজনশীল শিক্ষার বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার

আলী আহসান রবি : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই, পরীক্ষা কিংবা শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক জ্ঞানার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিভা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার মূল লক্ষ্য। শিক্ষাজীবন যেন আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ হয়-সে দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সকল অংশীজনের।

আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকায় ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সহশিক্ষা কার্যক্রম-যেমন খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা, সমাজসেবা ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক কর্মকাণ্ড-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. সি আর আবরার বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা লক্ষ্য করা যায়, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এই বাস্তবতায় শিক্ষাক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ভারসাম্য নতুন করে পর্যালোচনা করার সময় এসেছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে, যা প্রমাণ করে-মেধা শহর বা তথাকথিত অভিজাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈচিত্র্যময় মেধাকে সঠিকভাবে লালন ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।

অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে ড. সি আর আবরার বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই নারী। বাংলা ও ইংরেজি রচনা, বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে একই সঙ্গে তিনি সকল পর্যায়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করতে হবে-কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে নয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের সহজাত মেধা ও আগ্রহের বিকাশ সম্ভব হবে।

নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শৈশব ও কৈশোরে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণই অনেক সময় মানুষের জীবনের আগ্রহ ও সৃজনশীলতার ভিত্তি তৈরি করে। এই ধরনের কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। 

বক্তব্যের শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহশিক্ষা কার্যক্রমের চেতনা আরও বিস্তৃত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ এর অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে মোট ৯৮১ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে ২৬১ জন নির্বাচিত হন ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত হন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব রেহানা পারভীন।