সারাদেশ

CAP Foundation UK-এর উদ্যোগে অসহায় পরিবার পেয়েছে নতুন একটি  কর্নার শপ

CAP Foundation UK-এর উদ্যোগে অসহায় পরিবার পেয়েছে নতুন একটি  কর্নার শপ

সেলিম মাহবুব : অসহায়তার অন্ধকারে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে CAP Foundation UK সংস্থাটির উদ্যোগে একটি অসহায় সাত সদস্যের পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে একটি কর্নার শপ (ছোট দোকান) প্রদান করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারটিতে রয়েছেন মোট সাতজন সদস্য। 

পরিবারের কর্তা পাবেল আহমেদ  দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কোনো ধরনের কাজ করতে অক্ষম। অথচ পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। 

পরিবারে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ছেলে, এক বিধবা বোন এবং বোনের দুই সন্তান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের কারণে পরিবারটি চরম অর্থসংকটে পড়ে। 

অনেক সময় না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। আয়ের কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় সন্তানদের নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। 

এছাড়া তাঁদের বসতঘরটি ছিল জরাজীর্ণ; ভাঙা চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ত। পরিবারটির এই করুণ অবস্থার বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মাহফুজ রহমান সিমু। 

তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে CAP Foundation UK দ্রুত একটি টিম পাঠিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে। যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি কর্নার শপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই কর্নার শপের মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দোকান পরিচালনা করবেন। এতে পরিবারটির নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, সন্তানদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা সহজ হবে এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

১৫ ডিসেম্বর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্নার শপটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন CAP Foundation-এর প্রজেক্ট ডেপ্লোমেন্ট অফিসার আব্দুল আজিজ মেহেদী, অফিস সহায়ক সাদি আলম, শাহরিয়ার, স্বেচ্ছাসেবক মাহফুজ রহমান সিমু, রাফি, রিফাত, রিয়াদ, বর্ষণ,পাবেল, তারেকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে CAP Foundation-এর প্রজেক্ট ডেপ্লোমেন্ট অফিসার আব্দুল আজিজ মেহেদী বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। একটি কর্নার শপ শুধু আয়ের উৎস নয়, এটি একটি পরিবারের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। 

আমরা বিশ্বাস করি, এভাবেই ধীরে ধীরে সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। তিনি আরও জানান, CAP Foundation- এর কর্নার শপ প্রজেক্ট একটি চলমান কার্যক্রম। 

ইতোমধ্যে যেসব কর্নার শপ প্রদান করা হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দোকানগুলোর আয় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উপকারভোগীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। 

তিনি বলেন, এই প্রজেক্টটি সম্পূর্ণভাবে ফ্রি ও ডোনেশন ভিত্তিক হওয়ায় উপকারভোগীদের কোনো ঋণ, কিস্তি বা মাসিক পরিশোধের চাপ নেই। ফলে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা ছাড়াই তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারছেন।

CAP Foundation UK মনে করে, সহায়তার পাশাপাশি দায়িত্বশীল তদারকি ও মানবিক সহানুভূতিই টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অনেক অসহায় পরিবার স্বাবলম্বী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।