জাতীয়

সামিয়ার জন্য আশীর্বাদ পুলিশ সুপার

সামিয়ার জন্য আশীর্বাদ পুলিশ সুপার

 

নিস্পাপ একটি মেয়ে সামিয়া আক্তার। যার বয়স ১২ বছর। এই বয়সে যে মেয়েটি থাকার কথা স্কুল বা মাদ্রাসায়। খেলাধুলা করার কথা প্রিয় সহপাঠীদের সাথে। কিন্তু  ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সামিয়াকে আজ যুদ্ধ করতে হচ্ছে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য। জন্ম থেকে তার হার্টে রয়েছে ছিদ্র, বাল্বের সমস্যাসহ কয়েকটি জটিল রোগ। 

সামিয়ার বাবা শামীম হোসেন  একজন পোশাক শ্রমিক, মা রীমা আক্তার গৃহিণী।  সামিয়ারা চার ভাই বোন। বাবার সামান্য আয়ে চলে তাদের ছয় সদস্যের পরিবার। অভাবের সংসারে প্রতিদিনের খরচই যেখানে সংগ্রামের, সেখানে মেয়ের এত বড় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে অসহায় সামিয়ার বাবার জন্য। 

সামিয়াকে নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, দৈনিক ইনকিলাব, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক জাগো জনতা  সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ কর হয়। সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি। সংগঠনের সভাপতি মানবিক মানুষ দৈনিক বাংলার বিপ্লব পত্রিকার সম্পাদক সুমন আহমেদ এর চেষ্টায় সামিয়ার জন্য আশীর্বাদ হয়ে পাশে দাঁড়ান বাংলাদেশ পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। মানবতার ফেরিওয়ালা সেই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুজ্জামান (পিপিএম) । তিনি সামিয়ার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেন। আর এই মহান কাজে পুলিশ সুপার এর প্রতিনিধি হিসাবে সামিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা ও দেখাশোনা করেছেন ঢাকা জেলার উত্তরের টিআই এডমিন পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ গোলাম সারোয়ার। 

এসময় সাংবাদিক ইউসুফ বলেন, সামিয়া আক্তার এর বাবা একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। ২০১৯ সালে প্রথম ধরা পড়ে তার হার্ট ছিদ্র। ডাক্তার জানান সামিয়ার জন্ম থেকেই হার্টের ছিদ্র ছিলো। ডাক্তার বলেন অপারেশন করতে হবে। কিন্তু তার বাবার পক্ষে সম্ভব  হয়নি মেয়ের চিকিৎসা করানো। তাই আমি যখন দেখলাম চোখের সামনে একটি নিস্পাপ শিশু বিনাচিকিৎসায় আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন  আমি নিজ থেকে সামিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করি। দৈনিক ইনকিলাব এর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ রাউফুর রহমান পরাগ ও বাংলাদেশ টাইমস এর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি মনির হোসাইন এর একটি প্রতিবেদন আমি বিভিন্ন জায়গায় পোস্ট করি। সেখান থেকে সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির সভাপতি সুমন আহমেদ এর নজরে আসে। তিনি আমাকে কল করে সামিয়া ও তার পরিবারের সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান (পিপিএম)  এর সাথে যোগাযোগ করেন এবং সামিয়া সম্পর্কে সবকিছু জানান। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুজ্জামান (পিপিএম)  সবকিছু শুনে সামিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। আল্লাহ পাক সামিয়ার জন্য পুলিশ সুপার মহোদয়কে আশীর্বাদ হিসাবে পাঠিয়েছেন বলেই আজকে সামিয়া সুস্থ হয়ে আবার নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছে। 

এসময় তিনি আরো বলেন, জীবনের মালিক আল্লাহ, তাই হায়াৎ থাকতে কারো মৃত্যু হয় না। আল্লাহ পাক পুলিশ সুপারের উসিলায় সাদিয়াকে নতুন জীবন দান করেছেন। সামিয়ার এই সুস্থতার পিছনে অনেকেরই দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সাদিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি শুরু থেকে সমস্ত কাজে যিনি আমাকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে গেছেন এবং প্রতিদিন প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় সামিয়ার খোঁজখবর নিয়েছেন সেই মানবিক মানুষ পুলিশ ইন্সপেক্টর টি আই এডমিন মোঃ গোলাম সরোয়ার এর কাছে এবং যারা সামিয়াকে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছেন। আমি সকলের কাছে সামিয়ার জন্য দোয়া কামনা করছি। 

এসময় সামিয়ার পিতা শামীম বলেন,  আমার মেয়েটি জন্ম থেকেই হৃদরোগ আক্রান্ত ছিলো। কিন্তু আমরা বুঋতে পারি নাই। ২০১৯ সালে আমরা জানতে পারি আমার মেয়েটির হার্টে ছিদ্র আছে। ডাক্তার অপারেশন করতে বলেন কিন্তু টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারি নাই। দিন দিন আমার মেয়েটি যন্ত্রণায় কষ্ট করে যাচ্ছে আর আমি বাবা হয়ে মেয়ের কষ্ট দেখে যাচ্ছি। পরে ২০২৫ সালে আমার মেয়ে যখন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন আবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার অপারেশন করতে বলে। অপারেশন না করলে আমার মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব না। কিন্তু টাকার অভাবে এবারও যখন অপারেশন করে ব্যর্থ হই তখন আমার মামা সাংবাদিক ইউসুফ আলী নিজ উদ্যোগে আমার মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করতে থাকেন। পরে গাজীপুর থেকে সাংবাদিক সুমন আহমেদ এর চেষ্টায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় আমার মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। 

আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানীতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় এর উছিলায় আমার মেয়ে নতুন জীবন ফিরে পায়। আমি সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়সহ যারা আমার মেয়ের সুস্থতার জন্য সহযোগিতা ও দোয়া করেছেন আমি তাদের সকলের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। 

এসময় ঢাকা জেলার উত্তরের টিআই এডমিন গোলাম সারোয়ার বলেন, ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক  মোঃ আনিসুজ্জামান (পিপিএম) স্যার সামিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্যারের  দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় নিস্পাপ সামিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার ওপেন হার্ট সার্জারী থেকে শুরু করে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় যাওয়া পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে খোঁজ খবর  নেওয়া থেকে চিকিৎসার খরচ প্রদান করা হয়। আল্লাহর রহমতে বর্তমানে সামিয়া সুস্থ হয়ে গত ১৫ জুলাই বাসায় অবস্থান করছে। আমি স্যার ও সামিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এসময় তিনি আরও জানান, স্যার সামিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং অত্যান্ত খুশি হন। স্যার ও স্যারের সহধর্মিণী রিফাত জাহান সামিয়ার পরবর্তী চিকিৎসাসহ সামিয়া যতটুকু লেখাপড়া করতে চায় তার সমস্ত খরচ বহন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।