সেলিম মাহবুব : সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিটি পুজা মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশ এবং বের হওয়ার আলাদা পথ রাখতে হবে। পূজার সৌন্দর্য ও পবিত্রতা বজায় রাখতে নেশা ও ডিজে পার্টি পরিহার এবং নামাজের সময় মাইক ও ঢাকের আওয়াজ বন্ধ রাখতে হবে। পূজার আগে শহরের সকল রাস্তার খানাখন্দ মেরামত করে দেয়া হবে। উৎসবের দিনগুলোতে যে কোনও ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক,যাদের মূল দায়িত্ব হবে মণ্ডপের নিরাপত্তা। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি মূলক সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,এবার ৪২৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার সবচেয়ে বেশি পূজা মণ্ডপ দিরাই উপজেলায় ৭০টি। পূজা মণ্ডপের সংখ্যা কম দোয়ারা বাজার উপজেলায় ১৯টি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৪০০ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ৪২৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর রাফাত, সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি অধিনায়ক এ কে এম জাকারিয়া কাদির, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ র্যাব-৯ এর ডিএডি ওমর ফারুক, সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাসেল আহমেদ, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ডেন্ট রোবায়েত বিন সালাম, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক অশোক তালুকদার ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দিপংঙ্কর বণিক সুজিত, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিক প্রমুখ।
আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ডেন্ট রোবায়েত বিন সালাম বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এবার জেলার ৪২৪ টি মণ্ডপে প্রায় ৩ হাজারের মতো আনসার ভিডিপির সদস্য মোতায়েন করা হবে। অতিগুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ৮ জন, কম গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ মণ্ডপ গুলোতে ৬ জন সদস্য নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জের ইতিহাসে পূজায় সাম্প্রদায়িকতার কোন রেকর্ড নাই। নিজেদের মধ্যে যেন কোন সমন্বয়নহীনতা না থাকে।
সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এখন থেকেই করলে ভালো হয়, কারণ প্রতিমা নির্মাণের সময় মণ্ডপ অরক্ষিত থাকে। পুরুষ-মহিলার প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাওরাঞ্চল হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ঝড়—বৃষ্টি হয়, সেজন্য বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর, হ্যাজাক লাইট বা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে প্রবেশ এবং বের হওয়ার আলাদা পথ রাখতে হবে। সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে। কোন ঘটনা ঘটলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে, তাদের গলায় পরিচয়পত্র রাখলে আরও ভালো হয়। তাদের তালিকাও আমাদেরকে দিতে হবে, যাতে কোন প্রয়োজনে আমরা যোগাযোগ করতে পারি। পূজার সৌন্দর্য ও পবিত্রতা বজায় রাখতে নেশা ও ডিজে পার্টি পরিহার করতে হবে। আজান ও নামাজের সময় মাইক ও ঢাকের আওয়াজ বন্ধ রাখতে হবে ।
জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পূজার আগের শহরের সকল রাস্তার খানাখন্দ মেরামত করে দেয়া হবে। নতুনপাড়ার রাস্তার কাজ পূজা উপলক্ষে কিছুদিন বন্ধ থাকবে। যেসব রাস্তায় স্ট্রিট লাইট নেই, সেখানে লাইট লাগানো হবে। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জন সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার মহালয়ার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ওইদিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। পরের দিন ২২ সেপ্টেম্বর দেবীপক্ষের প্রতিপদ তিথি। শারদীয়া নবরাত্রি যাঁরা পালন করেন, তাঁরা সেদিন থেকেই পুজো শুরু করবেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মহাষ্টমী, পহেলা অক্টোবর বুধবার মহানবমী এবং দুই অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে।
এ বছর মহাসপ্তমী সোমবার দেবীর আগমন হবে গজ বা হাতিতে। শাস্ত্র মতে যা দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। দেবীর আগমন বা গমন হাতিতে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ—শান্তি—সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তদের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্তলোকের অধিবাসীরা। এছাড়াও বিজয়া দশমী বৃহস্পতিবার পড়ায় দেবীর গমন হবে দোলা বা পালকিতে।