জাতীয়

বকশীগঞ্জে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসে জামায়াতে ইসলামী’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বকশীগঞ্জে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসে জামায়াতে ইসলামী’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মনিরুজ্জামান : বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

মিছিলটি “ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক”, “শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”— এসব স্লোগানে মুখরিত হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বকশীগঞ্জ পৌর জামায়াতে ইসলামী’র আমির মাওলানা আব্দুল মতিন।

অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালের 
উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি মাওলানা আদেল ইবন আওয়াল (আরমান)।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আলহাজ রাসেল মাহমুদ, বাট্টাজোড় ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা সুলতান মাহমুদ।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। লগি-বৈঠা, লাঠি, পিস্তল ও বোমা দিয়ে নিরস্ত্র মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তা মানবতার ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা। আজও সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি মনে পড়লে শিউরে ওঠে বিবেকবান মানুষ। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, কিন্তু এখনো সেই নৃশংস ঘটনার বিচাঁর হয়নি। 


প্রধান অতিথি মাওলানা আদেল ইবন আওয়ান (আরমান) বলেন, “গত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল। তাদের দমননীতির কারণে আজ অনেক নেতা-কর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু জনগণ এখন জেগে উঠেছে— পরিবর্তনের জন্য দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”

বক্তারা আরও বলেন, “পল্টনের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না। শহীদদের আত্মত্যাগই হবে অন্যাইয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। ইসলামী আদর্শ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই হবে আমাদের বিজয়ের পথ।”

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।