জাতীয়

শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চালু — উপদেষ্টা ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন

শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চালু — উপদেষ্টা ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন

আলী আহসান রবি : গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা” শীর্ষক ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর আয়োজিত ‘শ্রম অধিকার’ বিষয়ক আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার সিরডাপ (সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।


আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এখন আগের তুলনায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা বাস্তবভিত্তিক ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ আরও সুসংহত হয়।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি দাবিদাওয়ার সমাজ—যে-ই সুযোগ পায়, সে-ই দাবি করে। কিন্তু শ্রমিক নেতাদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত শ্রমিকের পক্ষে কাজ করা, নিজেদের স্বার্থে নয়।”

উপদেষ্টা জানান, পূর্বের শ্রম আইন থেকে বর্তমান শ্রম আইনে অনেক পরিবর্তন ও সংস্কার আনা হয়েছে। “আমরা ইতিমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অনুমোদন করেছি—শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ইইউ (EU) ও আইএলও (ILO)-এর সঙ্গে এসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়নগুলোতে গণতান্ত্রিক অনুশীলন জোরদার করতে হবে। কোনো মালিক শ্রমিককে ব্ল্যাকলিস্ট করতে পারবেন না। কেউ এ ধরনের কাজ করলে মন্ত্রণালয়ে জবাবদিহি করতে হবে।”

মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়েছি, তবে দেশের সামগ্রিক আর্থ–সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্মাণ খাতসহ ইনফরমাল সেক্টরের শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় নির্মাণ কোম্পানিগুলো রেজিস্টার্ড না থাকলে তাদেরকে সরকারি টেন্ডার না দেওয়ার বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইনফরমাল সেক্টরের শ্রমিকদেরকে নীতিমালার আওতায় আনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু অসাধু মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি—তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, সম্পত্তি আটক করা হয়েছে। অন্য কোনো সরকার এসব করতে পারত না, কারণ অতীতে মন্ত্রীরাই ছিলেন কারখানার মালিক।”

ড. সাখাওয়াত হোসেন জানান, “আগে ৪৮ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, এখন সেগুলো আর নেই। এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে, শ্রমবান্ধব সরকারই প্রকৃত অর্থে শ্রমিকের পক্ষে কাজ করতে পারে।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ এর সভাপতি জিল্লুর রহমান। মুক্ত আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর , শ্রম ও সংস্কার কমিশনের প্রধান, বিভিন্ন শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।