জাতীয়

বিশ্ব হাতি দিবস আজ

বিশ্ব হাতি দিবস আজ

 

মোঃ জসিম মিয়া: বিশ্ব হাতি দিবসের আলোয় হাতি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার কথা সবাই স্মরণ করে। কিন্তু শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় পাদদেশে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে ভয়াবহ মানুষ–হাতি দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, আবার মানুষের প্রতিরোধে মরছে বন্যহাতি। তবে নেই কোনো স্থায়ী সমাধান।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৭০–৮০টি বন্যহাতির দল বসবাস করছে। ২০০০ সালের দিকে ভারত থেকে খাদ্যের সন্ধানে আসা কয়েকটি হাতি থেকে এ সংখ্যা বেড়ে এ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অঞ্চলের মুসলিম, গারো, হাজং, কোচ, বানাই বর্মন ও হিন্দুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ কৃষি ও শ্রমজীবন নিয়ে বসবাস করেন। তাদের জীবন ও জীবিকা হাতির তাণ্ডবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।


গ্রামবাসীরা জানান, হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে থাকে। সন্ধ্যা নামলেই খাদ্যের খোঁজে তারা লোকালয় ও ফসলি জমিতে আসে। রাতভর তারা হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঢাক–ঢোল পিটিয়ে, পটকা ফুটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হন না। পালাক্রমে হাতি বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের কৃষক উকিল উদ্দিন, এরশাদ আলম ও বাদশা মিয়া জানান, ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক জটিলতা পোহাতে হয়। পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় রেকর্ড না থাকলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। অনেকেই বছরের পর বছর ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পান না।

২০১৬ সালে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক তারের বেড়া) স্থাপন করা হলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি।

শেরপুর জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর গারো পাহাড় এলাকায় হাতির হামলায় ৪২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। একই সময়ে মারা পড়েছে ৩৩টি বন্যহাতি।