শিক্ষা

সুখাইড় রাজাপুরে প্রথম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাজ শুরু

সুখাইড় রাজাপুরে প্রথম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাজ শুরু

শফিকুল ইসলাম শফিক : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রাজাপুরে অবশেষে পূরণ হতে চলেছে বহু বছরের স্বপ্ন। ২১টি গ্রামের হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি—একটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—আবারও বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। শুরু হয়েছে রাজাপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ।

১৯৭৭ সালে জমিদার বংশধর সৈয়দ মাজহারুল হক ও মহসিন হোসেন চৌধুরী স্থানীয় জনগণের সহায়তায় জমিদার বাড়ির পুরনো বাংলোতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম জুনিয়র বিদ্যালয় "রাজাপুর ভাটির বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়"। বেশ কিছু বছর সফলভাবে চললেও ১৯৮৭ সালে স্থানান্তরের পর বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় বিদ্যালয় চালুর দাবি ওঠে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুনায়েদ চৌধুরীর উদ্যোগ, অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়ের সহযোগিতায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আবারও নতুন করে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

জমিদাতা সৈয়দ মাজহারুল হকের ছেলে সৈয়দ কায়ছার চৌধুরী বলেন—
পুরনো জমিদার বাড়ির বাংলোতে যে রাজাপুর ভাটির বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চলত, এখন সেটাই আধুনিক অবকাঠামো নিয়ে নতুনভাবে পুনর্জন্ম নিচ্ছে। এটি আমাদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুনায়েদ চৌধুরী বলেন—
একটি আলোর প্রদীপ জ্বালানোর উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। তবে এই আলো ধরে রাখার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে।

স্থানীয়রা মনে করেন—এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি বিদ্যালয় নয়; এটি ২১ গ্রামের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য বদলে দেওয়ার এক আশার বাতিঘর। দীর্ঘদিনের শিক্ষাবঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এলাকায় নতুন শিক্ষা অধ্যায়ের সূচনা হবে।

রাজাপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু হলে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা রিমোট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য। বদলে যাবে পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা—এমনই আশায় বুক বাঁধছে রাজাপুরবাসী।