শফিকুল ইসলাম শফিক : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সৌরভ (২২) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অনৈতিক কার্যকলাপে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়ে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
নিহত সৌরভ ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাজ্জাদ মিয়া ও মমতা খাতুন দম্পতির ছেলে।
গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সৌরভের শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভের স্ত্রী মাহিনুর আক্তারের বাবার বসতঘরের বেড়ায় হেলানরত অবস্থায় গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে ধর্মপাশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌরভ ও মাহিনুর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের। তাদের অভিযোগ, সৌরভের অনুপস্থিতিতে মাহিনুরের পরিচিত এক প্রেমিক যুগল প্রায়ই তার বাড়িতে এসে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতো। বিষয়টি জানতে পেরে সৌরভ স্ত্রীকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করে।
পরিবারের দাবি, এক পর্যায়ে মাহিনুর তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সৌরভ একাধিকবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার আগের দিন বিকেলে মাহিনুর ফোন করে সৌরভকে তার বাবার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে মাহিনুরসহ কয়েকজন মিলে সৌরভকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ঘরের বেড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ রাখা হয়।
সৌরভের মা মমতা খাতুন ও বাবা সাজ্জাদ মিয়া অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা মামলার নথিপত্র নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে বিষয়টি প্রকাশের আবেদন জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতের বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মপাশা থানা-র এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।