স্টাফ রিপোর্টার : সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিশু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের করা হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানাযায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টায় সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মারজান মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সকল স্থানে মারজানের সন্ধান না পেয়ে। তার পিতা (১ অক্টোবর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর গত রবিবার ( ১৪ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক দেড় ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন সুরমা ইউনিয়নের রাউটিয়া বিল এলাকায় জনৈক আব্দুল মালেকের আমন ধানের জমিতে ধান কাটার সময় একটি মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়।
সংবাদ প্রাপ্তির সঙ্গে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ, এর নেতৃত্বে পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুরতহাল সম্পন্ন করে।
নিখোঁজের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঙ্কালের পাশে পাওয়া জলপাই রঙের গেঞ্জি ও নীল রঙের জার্সি প্যান্ট দেখে তা নিখোঁজ মারজান মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
এছাড়াও ঘটনাস্থল তল্লাশিকালে একটি রক্তমাখা ভাঙা কাঁচির অংশ উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি ও নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ, পিপিএম।
তদন্ত চলাকালে ভৌত আলামত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে শিশু শাকিল (১৫)-এর সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ, পিপিএম-এর সরাসরি নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গোপন অভিযান পরিচালনা করে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গতকাল শুক্রবার( ১৯ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিশু অভিযুক্ত শাকিল (১৫)-কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত শিশু শাকিল ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে এবং মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। পরবর্তীতে সে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ, পিপিএম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় শুরু থেকেই আমি নিজে এর তদন্ত তদারকি করেছি। প্রাপ্ত ভৌত আলামত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করে আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, মামলাটি একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্ববহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। মামলার অন্যান্য দিক ও সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে বদ্ধপরিকর এবং এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।