বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

মেঘনার পারের জেলেদের অনিশ্চিত সুখ ও দুঃখঃ তবে তাদের মুখে ফুটেছে হাসি

মেঘনার পারের জেলেদের অনিশ্চিত সুখ ও দুঃখঃ তবে তাদের মুখে ফুটেছে হাসি

 

হাফিজুর রহমান শিমুলঃ বঙ্গপসাগরের পাশাপাশি মেঘনা নদীতেও ইলিশের অকাল কাটিয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে ভোলার মেঘনা পারের মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে রুপালি ইলিশ। ছোট সাইজের ইলিশের তুলনায় বড় মাপের ইলিশ ধরা পড়ায় মুখে হাঁসি ফুটেছে মৎস্যজীবীদের। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ইলিশের মৎস্যঘাটসহ আড়ৎগুলোও। ভোলার চরফ্যাসনের সাগর উপকূলের স্লুইস ঘাট, সামরাজ, খেজুঁর গাছিয়ার মৎস্য ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ কেনাবেচা নিয়ে মৎস্যজীবীদের ব্যস্ততা, কেউ কেউ ঝুড়ি বা ককশিটে ইলিশ সংরক্ষণ করছেন আবার অনেকে রপ্তানির জন্য ট্রাকজাত করণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেঘনা পারের মৎস্যজীবী আজগর আলী, শফিকুল জোয়ার্দার, আনছার আলী মহাজনসহ একাধীক মৎস্যজীবি জানান, টানা নিষেধাজ্ঞার পর থেকে নদীতে সপ্তাহখানিক ধরে মেঘনা ও সাগর মোহনায় ইলিশ ধরা পড়ছে। এ অবস্থা থাকলে তাদের বিদ্যমান সংকট দূর হবে অনেকাংশে। অনেকেই এনজিও এবং স্থানীয় মহাজনদের নিকট থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এভাবে মাছ ধরতে পারলে সেই ঋনগুলো মিটিয়ে দিতে পারবেন। বর্তমানে ছোট বড় ও মাঝারী সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও বেশ ভালো থাকায় খুশি মৎস্যজীবীরা। খেজুর গাছিয়ার মৎস্যঘাটের আড়ৎদাররা বলছেন, বিগত কয়েক মাস ইলিশের পরিমান কম থাকলেও গত এক সপ্তাহ থেকে মেঘনা নদীতে ইলিশ পড়তে শুরু করেছে। দেরিতে হলেও মাঝ -মৌসুমে চরফ্যাসনের মেঘনা নদীতে ছোট-বড় সাইজের রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি এখানকার জেলেরা। বড় সাইজের ইলিশ পাওয়ার বিষয়ে তারা বলছেন, ২২ দিন জটকা অবরোধ মেনে চলায় ইলিশের পরিমান বাড়ার সাথে বড় মাপের ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানান মৎস্য পাইকাররা বলছেন, চরফ্যাসনের মৎস্যঘাট গুলোতে কিছু আগেও ছিলো হাহাকার তবে এখন এখানকার জেলে ও মহাজনদের মুখে হাসি ফুটেছে। কয়েকটি মৎস্য আড়তে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে। নদী ও সাগরে ইলিশের এমন প্রাপ্যতা অব্যাহত থাকলে বিগত দিনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জেলেরা। উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত থাকলে জেলেদের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাজারে মাছের দামও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে পরিদর্শনে থাকা সাংবাদিক ইশারাত আলীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ভোলা জেলার মেঘনার পারে পৃথক পাঁচটি ঘাটে হাজার হাজার মৎস্যজীবি মৎস্য আহরণ শেষে সেটে নিয়ে আসে এবং মহাজনের মাধ্যমে ফড়িয়া কিংবা খুচরা বিক্রয় করে থাকে। দাদন ও এনজিও থেকে ঋন নেওয়ার ফলে চাপে থাকে মৎস্য জীবিরা। মৎস্য আড়ৎ ও সেটে একটি সিন্ডিকেট কাজ করে, যে কারণে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম বেশি। তবে মৎস্যজীবিদের সরকারী ভাবে প্রণাদনা দিলে তারা লাভবান হতো।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © MKProtidin.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com