সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মুখস্থ বিদ্যায় পাওয়া মূল্যহীন ডিগ্রি। মহাপরিচালক এর প্রশংসা” ব্যাজে ভূষিত হলেন ৩০জন কর্মকর্তা ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় ভাসছেন উপসচিব আলমগীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিস্তারিত আলোচনা মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না : হাইকোর্ট ‘ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪’-এর খসড়া মতামতের জন্য উন্মুক্ত/খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় এই আইন ভূমিকা রাখবে যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রী আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপনকে নাগরিক সংবর্ধনা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের শুভ উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মহোদয় অমর একুশের বই মেলায় শাবানা ইসলাম বন্যার অপূর্বা কালিগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন সুমন সভাপতি, তাহের সম্পাদক

কেমন কাটবে রোহিঙ্গাদের ঈদ?

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১৮, ৪.০৯ এএম
  • ৪৫৪ বার পঠিত

বৃষ্টি মৌসুমে উখিয়া টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবর্ণনীয় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন মাতৃভূমি থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা। আপন ভূমি, আপন আকাশ ছেড়ে পালিয়ে আসা এ মানুষগুলো কীভাবে কাটাবেন এবারের ঈদ উৎসব? ঈদের খুশি কি স্পর্শ করবে বিপন্ন এ মানুষগুলোকে?উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের চল্লিশ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দুর রহমান  বলেন, ‘প্রাণটা নিয়ে বেঁচে আছি, এই তো বেশি। এমন দুঃসময়ে উৎসবের কোনো আনন্দ উপভোগের সুযোগ তো নেই। আমার ভাই মরেছে, বন্ধু মরেছে ওপারে। উৎসবের কথা আসলেই তাদের চেহারা ভেসে আসে। তাদের ফেলে ঈদের আনন্দ পাব কী করে?’ তিনি বলেন, ‘এরপরও এটা আমাদের মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব। রোজার মাসে রোজা রেখে ঈদের উৎসবে শরিক হওয়া সওয়াবের কাজ। আমরা উৎসব করব-কিন্তু বুকের ভেতর থাকবে হাহাকার।’ একই শিবিরের ডি ব্লকের মোহাম্মদ রফিক নামের ১৫ বছরের কিশোর জানিয়েছে, মিয়ানমারের নাগাকুরা এলাকার নাইস্যাপুরে তাদের বাড়ি। প্রতিবছর ঈদে বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে অনেক মজা করত সে। পুরো রমজান মাস সারা দিন রোজা রেখে বাসায় মজা করে ইফতারের আয়োজন চলত। তারাবিহর নামাজের আগে মসজিদের সামনে বসত তুমুল আড্ডা। ঈদের সময় এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে মাঠের ধারে আর নদীর পাড়ে বেড়াতে যেত। কিন্তু এখন কারও বাড়ি নেই। মাঠ নেই, নদীও নেই। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে পরিবারসহ। তার বন্ধু-বান্ধব কে কোথায় রয়েছে জানে না রফিক। রফিক বলে, নতুন জামা কিনে দেবে- এ সাধ্য তো বাবার নেই। বাড়িতে থাকলে আত্মীয় স্বজন থেকে উপহার পেতাম। এখন কে কাকে উপহার দেবে? দেখতেই তো পাচ্ছেন আমরা কী অবস্থায় আছি। গত বছরের ২৪ আগস্ট মিয়ানমার সেনা ছাউনিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরসার হামলার পর ভয়ঙ্কর নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসে সাড়ে আট লাখের মতো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু। টেকনাফ ও উখিয়ার বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা। এসব সংস্থার ত্রাণের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। ক্যাম্পে থাকার ফলে তারা বাইরে কোথাও কাজও করতে যেতে পারেন না। ফলে বাড়তি কোনো টাকাও তাদের হাতে নেই। ঈদ উৎসবে বিশেষ জাঁকজমক আয়োজন, প্রিয়জনের জন্য উপহার কেনা, জামাকাপড় কেনা, বিশেষ খাবার বানানো অর্থহীন বিলাসিতাই মনে করছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা। তবে ঈদ মানে খুশি এবং এ খুশি তারা প্রকাশ করবেন আল্লাহর কাছে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে। এমনই জানালেন ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ (৬০)। তিনি বলেন, ‘গত বছর কুরবানির ঈদের সময় আমরা এখানে আসি। তখন ক্যাম্পেও ঢুকিনি। পথে-ঘাটে-মাঠে ঈদের নামাজ পড়েছি। এবার ঈদের সকালে ক্যাম্পের মসজিদেই জামায়াতে নামাজ পড়ব। রোহিঙ্গা জাতির মুক্তি ও কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইব।’ কথা বলতে বলতে আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে রহমত বলেন, ‘আমার এক ছেলেকে ওরা (বর্মী বাহিনী) মেরে ফেলেছে। ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসেই আমাকে সালাম করত, তাকে বুকে টেনে নিতাম। এবারের ঈদে আমার বুকে সে আসবে না। ওর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। এভাবেই আমাদের ঈদ উৎসব উদযাপন করতে হবে।’ শরণার্থী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর, উখিয়ার বালুখালি, পালংখালি-থাইংখালী ও কুতুপালংয়ের মূল৬টি ক্যাম্পে ১ হাজারের বেশি মসজিদ স্থাপিত হয়েছে। শরণার্থীরা সেসব মসজিদেই ঈদের জামাত আদায় করবেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

পুরাতন খবর

SatSunMonTueWedThuFri
     12
242526272829 
       
     12
24252627282930
       
2930     
       
    123
       
    123
25262728   
       
     12
31      
   1234
262728    
       
  12345
2728     
       
   1234
       
     12
31      
1234567
891011121314
15161718192021
2930     
       
    123
11121314151617
       
  12345
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
23242526272829
3031     
      1
       
293031    
       
     12
10111213141516
       
  12345
       
2930     
       
    123
18192021222324
25262728293031
       
28293031   
       
      1
16171819202122
30      
   1234
       
14151617181920
282930    
       
     12
31      
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
       
© All rights reserved © MKProtidin.Com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com