প্রভাষক মনিরুজ্জামান (মহসিন), নলতা শরীফ, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা থেকে:
অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক (১৯৪২-১৯২৯), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক, সাহিত্যিক,দার্শনিক, সমাজসেবক, সমাজ ভাবনার রূপকার, ‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’ এ মহান ব্রতকে সামনে রেখে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের কারিগর, মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত, ছুফী-সাধক, অলী-এ কামেল, সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব গওছে জামান আরেফ বিল্লাহ হজরত শাহ্ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর ১৪৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী নলতা পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ শনিবার সকাল ১০ টা হতে এক সেমিনার ও ৩৭ তম চক্ষু শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরমাণু বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্স এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন- হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুফী-সাধক। ইসলামের ৫ টি মূল স্তম্ভের বাইরে অনেক কিছু করার আছে। যেটি তিনি করে গেছেন। তিনি কর্মজীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি স্রষ্টার সৃষ্টিকে সেবা করে গেছেন। মানুষকে ভালো বেসেছেন। সুন্দর আয়োজনের জন্য নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জানোনোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এধরনের সেমিনারে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানান প্রধান অতিথি।
প্রধান অতিথি,সভাপতি সহ অন্যান্য বক্তাগণ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পীরে কামেলের এধরণের সেমিনার থেকে তার গুরুত্ব অনুধাবন করে তার সম্পর্কে আরো জানার জন্য বেশি বেশি গবেষণার ও তার রচিত গ্রন্থ বেশি বেশি পড়ার আহবান জানান।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্জ অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা: ও সমকালীন সমাজ’ নামক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রবন্ধকার, সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব ড.মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ।
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইন্সটিটিউট এর পরিচালক প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলাম এর -সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার রবিউল ইসলাম।
সেমিনারে আরো আলোচনা রাখেন-
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী শোয়েবুর রহমান, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইন্সটিটিউট এর মহাপরিচালক আলহাজ্জ এ এফ এম এনামুল হক, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইন্সটিটিউট এর উপদেষ্টা, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক এবং জাতীয় জাদুঘর এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর প্রমূখ।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মো. এনামুল হক।
ডিসেম্বর মাস ব্যাপী ফ্রিম চিকিৎসা ক্যাম্প সম্পর্কিত সেবা তথ্য উপস্থাপন করেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ মো. সাইদুর রহমান।
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মো. নজরুল ইসলাম, নলতা পাক রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্জ মৌ. আব্দুর রাজ্জাক, দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মো. মুজিবর রহমান, কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের যুগ্ম-সম্পাদক ডা: নজরুল ইসলাম, কর্মকর্তা আলহাজ্জ চৌধুরী আমজাদ হোসেন, আলহাজ্জ মো.মালেকুজ্জামান, মো. আনোয়ারুল হক, আলহাজ্জ মোহাম্মদ ইউনুস, মো. আজিজুর রহমান পাড়, আলহাজ্জ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আলহাজ্জ রবিউল হক আলহাজ্জ আবুল ফজল, শফিকুল আনোয়ার রঞ্জু,আলহাজ্জ একরামুল রেজা, খায়রুল হাসান, আলহাজ্জ আলমগীর হোসেন, আলহাজ্জ আনারুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন শাখা মিশনের কর্মকর্তা, আলহাজ্জ আনিছুজ্জামান খোকন সহ পীর কেবলার ভক্তবৃন্দ,শিক্ষক, সাংবাদিক তথা নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় ১০ হাজার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শেষে দোয়া পরিচালনা করেন নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্জ মুফতি মাওলানা মো. আবু সাঈদ রংপুরী।