বৃহস্পতিবার, ০৭ Jul ২০২২, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমুদ্রপথে হজ্জ্বযাত্রাঃ- পর্ব-২।।মানুষের কল্যাণে প্রতিদিন অনিয়মিত হয়ে গেলে ফিরে আসা কঠিন,কিন্তু অসম্ভব না পিরোজপুর বেকুটিয়া এলাকায় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু উদ্বোধনের আগেই বিদ্যুতের তামার তার চুরি খুলনার পাইকগাছায় আনসার ও ভিডিপির মাসব্যাপি বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পিরোজপুরে ৬ জন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কারের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান আশাশুনি পল্লী সমাজ পুনঃ গঠন গোপালপুরে কলা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে যুবক নিহত।।মানুষের কল্যাণে প্রতিদিন কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আহমদ আলীর মৃত্যু। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দাফন দেবহাটার ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ের নব-নির্মিত ৪তলা ভবনের উদ্বোধন করলেন ডা: রুহুল হক এমপি”
হারিয়ে যাওয়া এক পেশা নিদ্রা জাগানিয়া বা নকার আপার্স

হারিয়ে যাওয়া এক পেশা নিদ্রা জাগানিয়া বা নকার আপার্স

 

যখন এলার্ম ঘড়ি আবিস্কার হয়নি কিংবা সাধারণ মানুষের কেনার সাধ্য ছিল না তখন সাধারণ খেটে খাওয়া, অফিস কিংবা কল কারখানায় কাজ করা লোকদের সময় মতো ঘুম ভাঙাতো কে? তাদের ঘুম থেকে তুলে দিত “নকার আপার্স” রা। এরা ছিল ভাড়া করা জ্যান্ত এলার্ম। ঠক ঠক ঠক, ওঠে পড়ো সাহেব, ভোর হয়ে গেছে…. এটাই ছিল তাদের পেশা। ঊনবিংশ শতকে ও বিংশ শতকের প্রথম দিকে ইংল্যান্ডে আর আয়ারল্যান্ডে এদের দেখা যেত। শিল্প বিপ্লবের পর যখন কল কারখানা তৈরি হল তখন মানুষেরও সকাল সকাল কাজে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ল। ফলে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠতে হত। ইংল্যান্ডের ঠান্ডা আবহাওয়ায় সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর খুব ভোরে কম্বলের তলায় সহজে ঘুম ভাঙার কথা নয় কিংবা ভাঙতও না। ফলে কাজে যেতে দেরি হয়ে যেতো ফলে মাইনে কাটা যেতো কিংবা চাকরিও চলে যেত। তখনই সৃষ্টি হল নকার আপার্স পেশার। এদের বেশি দেখা যেত উত্তর ইংল্যান্ডে শিল্পাঞ্চলে যেখানে মানুষ কল কারখানায় শিফটে কাজ করত। সাধারণতঃ বয়স্ক লোকজন, ভারী কাজের ক্ষমতা নেই কিন্তু রোজগারের দরকার এমন মানুষ। ভোর হলেই এরা লোকজনের ঘুম ভাঙাতে বেরিয়ে পড়ত। হাতে থাকত লগির মত লম্বা লাঠি বা বাঁশির মত একটা পাইপ বা নরম হাতুড়ি। তখন বেশিরভাগ লোক দোতলায় ঘুমাতো তাই এরা সেই লম্বা লাঠি দিয়ে সাহেবদের শোবার ঘরের জানলায় ঠক ঠক করে ৩/৪ বার আওয়াজ করত। সাহেবের ঘুম ভেঙেছে নিশ্চিত হয়েই পরবর্তী বাড়ির দিকে এগোতো। কেউ কেউ আবার বাঁশির মত ফাঁপা পাইপে মটর দানা ঢুকিয়ে তাক করে কাঁচের জানলায় ছুড়ত ফলে ঘুম ভাঙতো। আবার কেউ নরম হাতুড়ি দিয়ে সদর দরজায় কয়েকবার টাক টাক করে আওয়াজ তুলে ঘুম ভাঙাতো। এরা কখনও খুব জোরে শব্দ করত না বা চেঁচাত না। তাতে আশেপাশের লোকের ঘুম নষ্ট হলে আবার টাকা কাটা যেতো। চুপিচুপি শুধু নিজ নিজ খদ্দেরের ঘুম ভাঙাতে আস্তে আস্তে নক করতে হতো। ভোর পাঁচ থেকে ছটার মধ্যেই এদের কাজ সারতে হতো। একজন নকার আপার কর্মি গড়ে ৩৫ থেকে ১০০ জনের ঘুম ভাঙাত। কেউ কেউ আবার ঘুম ভাঙানোর জন্য রেগেও যেত, সুখনিদ্রা ভাঙানোর জন্য রাগটাও গিয়ে পড়ত এদের ওপর, টুকটাক খিস্তি খেউড়ও নসিবে জুটতো। এরা অন্যের ঘুম ভাঙাত কিন্তু এদের ঘুম ভাঙাত কে? এরা রাতে ঘুমতই না! সারা রাত জেগে ভোরে খদ্দেরদের জাগিয়ে তারপর নিজে শুতে যেত। দিনভর ঘুমিয়ে বিকেলে আড়মোড়া ভাঙত…

ছবিতে মেরী স্মিথ, নিদ জাগানিয়ার কাজ করে ১৮৭০ সালে সপ্তাহে জনপ্রতি ছয় পেনি করে আয করতো। সে সময় অনেক পুলিশ সদস্যও অতিরিক্ত রোজগারের জন্য এই কাজ করত। যেসব পুলিশের রাত্রিকালীন ডিউটি থাকত তারা খুব ভোরে লোকদের জাগিয়ে দিয়ে বাড়তি কিছু রোজগার করত। আধুনিক যুগে বাজারে সস্তা এলার্ম ঘড়ি এলে এদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। সর্বশেষ ১৯৭০ র দশকেও ইংল্যান্ডে কয়েক জায়গায় এদের কাজ করতে দেখা গেছে…
লেখকঃ বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির আইন প্রশিক্ষক হাসান হাফিজুর রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © MKProtidin.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com